চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন, প্রচার ও বাজারজাতকরণের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬। জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ মঞ্চে’ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু ছালেহ মোহাম্মদ মুসা জঙ্গী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, বিসিকের আঞ্চলিক পরিচালক জাফর বায়েজীদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নাকিব হাসান তরফদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ সাজিদুল ইসলাম।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেছেন। মেলায় হস্তশিল্প, নকশিকাঁথা, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্য, দেশীয় খাবারসহ নানা ধরনের সামগ্রীর আকর্ষণীয় স্টল স্থান পেয়েছে, যা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের জন্য এ ধরনের মেলা একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যেখানে তারা সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন এবং নিজেদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ পান।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে এবং উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।” তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মেলা আয়োজকরা জানান, এই মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রসার ঘটানো এবং তাদের জন্য একটি টেকসই বাজার তৈরি করা। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মাঝে দেশীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোও এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তারা উদ্যোক্তাদের কাজের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত পণ্য উৎপাদনের জন্য উৎসাহ প্রদান করেন।
মেলাটি প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সকল দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং আগামী ১০ দিন ধরে চলবে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ মেলার মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তারা নতুন ক্রেতা পাবেন এবং তাদের ব্যবসায় ইতিবাচক গতি সঞ্চার হবে, যা সামগ্রিকভাবে জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
মন্তব্য করুন