পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ১২টি অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপনের অনুমতি চেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকায় কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জনদুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যে এ আবেদন করা হয়।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটবে। ফলে নির্ধারিত স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন না করা হলে সড়কে যানজট, বিশৃঙ্খলা ও জনভোগান্তি বাড়তে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন।
আবেদনকৃত অস্থায়ী পশুর বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে সৈয়দপুর বাজার, নয়াবন্দর বাজার, বড়ফেচী বাজার, পল্লীগঞ্জ বাজার, ইনাতগঞ্জ বাজারের জগন্নাথপুর অংশ, গোবিন্দ বাজার, কেউন বাড়ি বাজার, মিরপুর বাজার, লামাটুকের বাজার, মজিদপুর বাজার, পৌর শহরের কেশবপুর বাজার এবং জগন্নাথপুর সদর বাজার।
এছাড়াও উপজেলার রসুলগঞ্জ বাজার ও রানীগঞ্জ বাজারে নিয়মিতভাবে পশুর হাট বসে থাকে। তবে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বাড়তি চাপ সামাল দিতে অস্থায়ী হাটের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আবেদনকারীরা বলেন, নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত স্থানে পশুর হাট বসানো হলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে এবং যান চলাচলেও বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে না। এছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পশু পরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও এসব হাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মতে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পশুর বাজার বসলে জনদুর্ভোগ বাড়ে। তাই প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট স্থানে অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, “অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপনের জন্য যেসব আবেদন পাওয়া গেছে, সেগুলো অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত অনুমোদনের কোনো চিঠি আমরা পাইনি।”
তিনি আরও জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুযায়ী হাট পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঈদকে ঘিরে পশুর হাট নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, খামারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। এখন প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন