নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলে অসন্তোষ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে।
জানা গেছে, কাশিপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে শরিফুল ইসলাম শরিফকে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তিনি পেশায় ডিস লাইন ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়ভাবে আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মতিয়ার রহমানের আত্মীয় বলেও জানা গেছে।
মনোনয়ন ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শরিফুল ইসলামের আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবি বিএনপি-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি আইডি থেকে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের দাবি, শরিফুল ইসলাম মাত্র কয়েক বছর আগে দলে যোগ দেন। অতীতে দলীয় কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে তার সম্পৃক্ততা কিংবা মামলা-হামলার ইতিহাস নেই। তাদের অভিযোগ, তৃণমূল ও স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতামত না নিয়েই তাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতার ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতেই এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে সংগঠনের নীতিমালা ও ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে ইউনিয়ন জামায়াতের এক কর্মী মো. সাকিব বলেন, শরিফুল ইসলামের পেশা ও অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় তাকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা হাদিউজ্জামান বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তেই শরিফুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে জামায়াতের কর্মী।
অন্যদিকে, নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, তিনি কখনো আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে ছিলেন না। তবে সংসদ সদস্য Mashrafe Bin Mortaza আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর একটি সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন।
মন্তব্য করুন