দিনাজপুরের হিলিতে তীব্র তাপদাহে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তির অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে তালের শাঁস। ৩৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষরা ঠান্ডা ও প্রাকৃতিক এই খাবারের দিকে ঝুঁকছেন।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী দুপুরের দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচণ্ড রোদ ও অস্বস্তিকর গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ অবস্থায় হিলি বাজারে তালের শাঁসের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
দোকানগুলোতে একদিকে বিক্রেতারা তালের শাঁস কাটছেন, অন্যদিকে দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ক্রেতারা লাইনে দাঁড়িয়ে তালের শাঁস কিনছেন, ফলে বিক্রেতাদের দম ফেলার সময়ও মিলছে না।
স্থানীয় তালের শাঁস বিক্রেতা মামুন বলেন, “আমি সাধারণত ফলের ব্যবসা করি। তবে কয়েকদিনের তীব্র গরমে তালের শাঁস বিক্রি শুরু করেছি। চাহিদা এত বেশি যে একদিকে কাটছি, আরেকদিকে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি এসব তাল জয়পুরহাট থেকে নিয়ে আসি। প্রতি পিস ৬ টাকা এবং প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করছি।”
অন্যদিকে ক্রেতারা জানান, কয়েকদিন ধরে অস্বাভাবিক গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ঠান্ডা পানীয় ও ফ্রিজের খাবারের পাশাপাশি তালের শাঁস তাদের কাছে স্বস্তির একটি প্রাকৃতিক উপায় হয়ে উঠেছে। তবে কেউ কেউ অভিযোগ করেন, চাহিদার তুলনায় দাম কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে এবং দাম কম হলে আরও বেশি মানুষ কিনতে পারত।
তীব্র তাপপ্রবাহে হিলির বাজারে তালের শাঁস এখন মৌসুমি স্বস্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা গরমে ক্লান্ত মানুষের মাঝে সাময়িক প্রশান্তি এনে দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন