
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২০ মে) রাত ৯টায় জাতীয় গ্রিডে সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে দেশের বিদ্যুৎ খাত।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিডে একই সময়ে এত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন এই প্রথম। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে উৎপাদন কেন্দ্র, সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং বিতরণ সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার কারণেই এই রেকর্ড সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেলেও উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেছে।
এর আগে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই সেই রেকর্ড গড়া হয়েছিল। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে দেশের বিদ্যুৎ খাত।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় শিল্পকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বস্তি ফিরেছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতেও এই অর্জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সঞ্চালন লাইনের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার করায় জাতীয় গ্রিড এখন আগের তুলনায় আরও স্থিতিশীল হয়েছে। ফলে উচ্চ চাহিদার সময়েও বড় ধরনের বিপর্যয় ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে।
বিদ্যুৎ খাতের এই অর্জনকে দেশের জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও টেকসই করতে কাজ চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন