নাটোরের নলডাঙ্গায় গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে রোড নেটওয়ার্ক ও সড়কের অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন, সংযোগ বৃদ্ধি এবং টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল এমরান খান। কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামীণ এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক সড়ক নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল এমরান খান বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। একটি এলাকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে টেকসই সড়ক নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হলে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
কর্মশালায় নাটোর জেলা এলজিইডি কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে এলজিইডি ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। সড়ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনসাধারণের মতামত ও বাস্তব প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নলডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিকুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ, নলডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল, নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বুলবুল, সাবেক পৌর মেয়র বিএনপি নেতা আব্বাস আলী নান্নু, সাবেক পৌর প্রশাসক বিএনপি নেতা এম এ হাফিজসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রামীণ সড়কের বর্তমান সমস্যা, সংস্কার প্রয়োজনীয়তা এবং নতুন সড়ক নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে মতামত প্রদান করেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং জরুরি সেবার ক্ষেত্রে উন্নত সড়ক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের মতামত সংগ্রহ করে বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। এতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন