মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ সম্প্রসারণ এবং চাষিদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মৎস্য চাষিদের মাঝে মাছের পোনা, মাছের খাদ্য, এয়ারেটর, ফল ও সবজির বীজ, ফলদ-বনজ গাছের চারা এবং বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়)’-এর আওতায় এ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে উপজেলা মৎস্য বিভাগ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগী মৎস্য চাষিদের হাতে উপকরণ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাবিবুল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও বলেন, সরকারের এ প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষে স্থানীয় চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা, গৃহস্থালি পুকুরের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পুষ্টি নিরাপত্তার পাশাপাশি পারিবারিক আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রনজিৎ কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার সেফাইনুল আরেফিন এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এফ. এম. শামীম আহসান।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার জানান, প্রকল্পের আওতায় চারজন মৎস্য চাষির জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চারটি প্রদর্শনী খামার এবং উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের নয়জন চাষির জন্য গৃহস্থালি পুকুরে দেশীয় প্রজাতির টেংরা, মনোসেক্স তেলাপিয়া ও ভেটকি মাছ চাষের মোট নয়টি প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এসব প্রদর্শনী খামারের জন্য মাছের পোনা, এয়ারেটর, মাছের খাদ্য, বিভিন্ন সবজির বীজ, ফলদ ও বনজ গাছের চারা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক মৎস্য চাষ সম্প্রসারণের পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি ও চাষিদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন