মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘী হাওরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন কৃষকরা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ দাখিল করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, কাউয়াদিঘী হাওরের কৃষকরা বছরে একবার বোরো ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল। চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে অনেক কৃষকের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে তারা ধান কাটতে না পেরে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দের এবং বোরো চাষ না করা ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে যারা প্রকৃতপক্ষে বোরো আবাদ করেননি বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হননি, তাদের নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি সহায়তা বিতরণ করা হোক।
কৃষক শাহিন মিয়া, ফখরুল মিয়া, মিতুল মিয়া ও সুহেল মিয়া বলেন, “যাদের কোনো ক্ষতি হয়নি, তাদের নাম সরকারি অনুদানের তালিকায় রয়েছে। আমরা চাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাই যেন সরকারি সহায়তা পান।”
এ বিষয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সরকার বলেন, “অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। তবে বরাদ্দ সীমিত থাকায় সবাইকে সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।”
মন্তব্য করুন