বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বসতবাড়ির আলমিরা ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে ভুক্তভোগীর বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীকে দ্রুত উদ্ধার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন অভিযোগকারী সুমাইয়া আজম স্বর্ণালী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড়পরী গ্রামের প্রবাসী ফারুক মোড়লের স্ত্রী সুমাইয়া আজম স্বর্ণালী গত ২৪ মার্চ রাতে বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। এ সময় তার প্রতিবন্ধী বোনের মেয়ে, পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা মুনা (১৫) নিখোঁজ হয়। অভিযোগে বলা হয়, পার্শ্ববর্তী শরণখোলা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের নাজমুল হাসান মাহিন (১৯) তাকে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘরের আলমিরা ভেঙে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
ঘটনার পর সুমাইয়া আজম স্বর্ণালী বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে প্রায় ২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থী ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে সন্ন্যাসী পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) তমিজ উদ্দিন বলেন, “এটি অপহরণের ঘটনা নাও হতে পারে। মেয়েটি এর আগেও স্বেচ্ছায় ওই ছেলের সঙ্গে চলে গিয়েছিল। তাদের উদ্ধারের জন্য অভিভাবকদের মাধ্যমে চেষ্টা চলছে।”
অভিযুক্ত মাহিনের মা মাহিনুর বেগম জানান, ছেলে ও মেয়েটি পূর্বেও একবার বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। পরে তারা ফিরে আসে। বর্তমানে তাদের মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে এবং আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সুমাইয়া আজম স্বর্ণালী বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার কাছে বড় হওয়া ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার এবং চুরি যাওয়া সম্পদ ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন