বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বড়পরী গ্রামে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে দ্রুত উদ্ধারসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে বাদীর নিজ বসতবাড়িতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ তুলে ধরেন প্রবাসী ফারুক মোড়লের স্ত্রী সুমাইয়া আজম স্বর্ণালী। তিনি জানান, ঘটনার দিন গভীর রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তার প্রতিবন্ধী বোনের মেয়ে, পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা মুনা (১৫)-কে অপহরণ করা হয়। একই সঙ্গে বসতঘরের আলমিরা ভেঙে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী শরণখোলা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মিজান হাওলাদারের ছেলে নাজমুল হাসান মাহিন (১৯) জড়িত। তিনি পূর্বপরিচিত এবং একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি পরিবারের।
ঘটনার পরপরই সুমাইয়া আজম স্বর্ণালী বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি তদন্তের জন্য সন্ন্যাসী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই তমিজ উদ্দিনকে দায়িত্ব দেন। তবে অভিযোগের ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ শিক্ষার্থী বা চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে এসআই তমিজ উদ্দিন বলেন, এটি সরাসরি অপহরণের ঘটনা নাও হতে পারে, কারণ পূর্বেও ওই শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল। তিনি জানান, অভিভাবকদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট যুবককে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত নাজমুল হাসান মাহিনের মা মাহিনুর বেগম দাবি করেন, ছেলে ও মেয়ে উভয়েই পূর্বে একবার বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে জেল থেকে বের হয়ে আবারও তারা একসঙ্গে চলে গেছে। বর্তমানে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সুমাইয়া আজম স্বর্ণালী বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার কাছে বড় হওয়া ভাতিজি মুনাকে প্রলোভনে ফেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন। দ্রুত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার এবং চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ ফেরত পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন