মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পূর্ব বিরোধের জেরে এক চা শ্রমিক ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের মগলাম বস্তি এলাকায়। ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মগলাম বস্তি এলাকার বাসিন্দা ও চা শ্রমিক মিলন ঘোষ (৩৪) এবং স্থানীয় মিঠুন সুদবংশী তাঁতীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব বিরোধ চলছিল। গত ১ মে বিকেলে মিলন ঘোষ ভাড়াউড়া চা বাগান থেকে ট্রাক্টর নিয়ে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে রাজঘাট চা বাগানের ডিজিএম বাংলোর সামনে পৌঁছালে বৃষ্টির কারণে ট্রাক্টরের একটি চাকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়।
এ সময় শব্দ শুনে পূর্ব বিরোধের জেরে মিঠুন সুদবংশী ঘটনাস্থলে এসে মিলন ঘোষের ওপর চড়াও হন। তিনি তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
তবে এ ঘটনার পরের দিন আবারও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মিলনের বড় চাচা অধর ঘোষ ঘটনার কারণ জানতে চাইলে মিঠুন সুদবংশী কাঠ দিয়ে আঘাত শুরু করেন। চিৎকার শুনে মিলনের বাবা সুধীর ঘোষ ও মা জোৎস্না ঘোষ এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে পরিবারের তিনজন সদস্য গুরুতর আহত হন।
আহতদের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় চা শ্রমিকরা হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্তে একজন উপ-পরিদর্শককে (এসআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, চা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রায়ই তারা নানা ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হন। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা কমে আসবে বলে তারা মনে করেন।
মন্তব্য করুন