ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী ফারুখ মিয়াকে সাময়িক অব্যাহতির পর পুনরায় স্বপদে বহাল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আদেশ পাওয়ার পর থেকেই তিনি পুনরায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, এর আগে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা এবং কিছু প্রশাসনিক জটিলতার প্রেক্ষিতে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে জারি করা এক চিঠির মাধ্যমে হাজী ফারুখ মিয়াকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। সেই আদেশ অনুযায়ী তার আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাও স্থগিত রাখা হয়, ফলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেয়।
পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা, মামলার বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি নথিপত্র পর্যালোচনা করে জেলা প্রশাসন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে হাজী ফারুখ মিয়ার দায়িত্ব পালনে কোনো আইনি বাধা নেই। এরই ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক তাকে পুনরায় স্বপদে বহাল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ফারুখ মিয়ার কাছে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এর ফলে তিনি আবারও হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হাজী ফারুখ মিয়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেন এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ওয়াসীম আহমেদ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পরাজিত হন এবং প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েও ফারুখ মিয়ার এ বিজয় স্থানীয়ভাবে তার শক্তিশালী জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
চেয়ারম্যানের পুনর্বহালের খবরে হরিপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ও তার সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই আশা করছেন, তার পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের ফলে ইউনিয়ন পরিষদের স্থগিত হয়ে থাকা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং নাগরিক সেবা আরও গতিশীল হবে।
স্থানীয়দের মতে, জনপ্রতিনিধির ধারাবাহিক উপস্থিতি ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ফারুখ মিয়ার দায়িত্বে প্রত্যাবর্তন হরিপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
মন্তব্য করুন