সিলেটের বিশ্বনাথে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না হতদরিদ্র টমটম চালক মো. আব্দুল খালেদ শিপন (৪৫)। দীর্ঘ চার মাস ধরে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার স্ত্রী ও আট সন্তানের।
জানা গেছে, বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল খালেদ শিপন পেশায় একজন টমটম চালক। প্রতিদিনের আয়ে কোনো রকমে চলছিল তার সংসার। স্ত্রী, বৃদ্ধ মা, ৬ কন্যা ও ২ পুত্র সন্তান নিয়ে ছিল তার ছোট্ট পরিবার। কিন্তু হঠাৎ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তার জীবন যেন থমকে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় পরিবারটিতে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত চার মাস ধরে অসুস্থ শিপন নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছেন না অর্থাভাবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ কেনার সামর্থ্যও নেই তার পরিবারের। ফলে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আগে প্রতিদিন টমটম চালিয়ে যা আয় হতো, তা দিয়েই সংসারের খরচ চলত। কিন্তু এখন আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের দুবেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ছোট ছোট সন্তানদের কান্না আর অভাবের কষ্ট দেখে অসহায় হয়ে পড়েছেন শিপন ও তার স্ত্রী।
অসুস্থ শিপনের স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামী যদি সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফিরতে পারেন, তাহলে আমাদের পরিবারটাও বাঁচবে। কিন্তু চিকিৎসার জন্য যে টাকা দরকার, তা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুল খালেদ শিপন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। নিজের কষ্টের উপার্জনে পরিবার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু অসুস্থতার কারণে বর্তমানে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত ও নিয়মিত চিকিৎসা পেলে শিপন আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান, মানবিক সংগঠন ও দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, একজন শিপন সুস্থ হয়ে উঠলে শুধু একজন মানুষই নয়, তার ওপর নির্ভরশীল আরও ১০টি প্রাণ বেঁচে থাকার অবলম্বন ফিরে পাবে।
মানবিক সহায়তা দিতে আগ্রহীরা সরাসরি আব্দুল খালেদ শিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা তার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ০১৭১৯-৩৩৪৫৯৭-এ আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে হয়তো আবারও সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবেন অসহায় এই টমটম চালক এবং বাঁচবে তার অবুঝ সন্তানদের ভবিষ্যৎ।
মন্তব্য করুন