চট্টগ্রামের পটিয়ায় গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আঞ্চলিক তথ্য অফিস (পিআইডি), চট্টগ্রামের কার্যক্রম বিষয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) পটিয়ার নোঙর রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোঃ সাঈদ হাসান। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ সাংবাদিকদের জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আইন, যা ব্যবহার করে যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন কিংবা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। এর মাধ্যমে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা যায়।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো বস্তুনিষ্ঠ তথ্য অনুসন্ধান করে জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরা। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে ইতিবাচকভাবে সহযোগিতা করার মাধ্যমে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও কার্যকর করা সম্ভব।
সভায় উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোঃ সাঈদ হাসান বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনুমোদনহীন অনলাইন পোর্টালের কারণে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এসব ভুয়া তথ্য ও গুজব মোকাবেলায় প্রকৃত সাংবাদিকদের ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) এবং প্রেস কাউন্সিল মূলত সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের জন্য কাজ করলেও উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ এখনো সীমিত। তবে ভবিষ্যতে তথ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় আঞ্চলিক তথ্য অফিস চট্টগ্রামের সিনিয়র তথ্য অফিসার বাপ্পী চক্রবর্তী পিআইডির বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের নানা দিক তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তাই সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে সঠিক তথ্য জানানো গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অবহিতকরণ সভায় পটিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ, গণমাধ্যম কর্মী, তথ্য অফিসের কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা এ ধরনের আয়োজনকে সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে আরও প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত এ ধরনের কর্মশালার দাবি জানান।
মন্তব্য করুন