আর মাত্র কয়েকদিন পর শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৩৯ জন শিক্ষার্থী এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের ফরম ফিলাপ ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না হওয়ায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
জানা গেছে, চলতি বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪০ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে একজন ছাড়া বাকি ৩৯ জনের ফরম ফিলাপ সম্পন্ন হয়নি। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৪ জনের নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনও সম্পন্ন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা নির্ধারিত ফি যথাসময়ে জমা দিলেও কর্তৃপক্ষ তাদের ফরম পূরণ করেনি। শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল্লাহ, সোনিয়া, খাদিজা ও ইতি খাতুনসহ একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো সন্তোষজনক সমাধান পাননি। এতে করে তাদের মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে, শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৩ এপ্রিল) পর্যন্ত রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করেও এই সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাসময়ে জমা না দেওয়ায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ কামারুজ্জামান দায় এড়াতে অফিস সহকারীর ওপর দোষ চাপান। তিনি জানান, ফরম ফিলাপ সংক্রান্ত দায়িত্ব অফিস সহকারীকে দেওয়া হয়েছিল। কীভাবে এত শিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপ হয়নি, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক শামীম হাসান বলেন, অধ্যক্ষ গত সোমবার বোর্ডে এলেও প্রয়োজনীয় হার্ডকপি জমা দেননি। বর্তমানে বিষয়টি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
পরীক্ষা শুরুর দ্বারপ্রান্তে এসে এমন অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান না হলে এই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন