ঐতিহাসিক “মুলুকে চল দিবস” উপলক্ষে নিহত চা শ্রমিকদের স্মরণে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তালগাছ রোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সকালে উপজেলার ভাড়াউড়া চা বাগানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজকরা জানান, “মুলুকে চল দিবস” শুধু একটি স্মৃতিবিজড়িত দিন নয়, বরং চা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক। এদিনে নিহত শ্রমিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতীকীভাবে তালগাছ রোপণ করা হয়। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন দেশের চা শ্রমিকরা। প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে চা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর। কিন্তু জলবায়ু অভিযোজন, ন্যায্যতা ও সুবিচারের প্রশ্নে চা শ্রমিকরা এখনও উপেক্ষিত ও বঞ্চিত।
বক্তারা আরও বলেন, একসময় চা শ্রমিকদের “মুলুকে ফিরে যাওয়ার” কথা বলা হলেও বর্তমান প্রজন্মের সচেতন চা শ্রমিকরা বাংলাদেশকেই নিজেদের স্থায়ী আবাসভূমি হিসেবে দেখতে চান। তারা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সমমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে চা শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলেন, “এই দেশ আমাদের, এই মাটি আমাদের। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে চা শ্রমিকরাও অংশ নিয়ে দেশের জন্য অবদান রেখেছেন। তাই রাষ্ট্রের কাছে আমাদের দাবি—ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা, মানসম্মত মজুরি প্রদান, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দেওয়া।”
এছাড়া বক্তারা ২০ মে “ঐতিহাসিক মুলুকে চল দিবস”কে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা, চাঁদপুরের মেঘনাঘাটে শহীদ চা শ্রমিকদের স্মরণে ভাস্কর্য নির্মাণ এবং জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে ২০ মে’র ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় তালগাছ রোপণের মতো উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সচেতনতামূলক বার্তা বহন করবে বলেও মত দেন তারা।
“মুলুকে চল দিবস” উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি ঘিরে ভাড়াউড়া চা বাগান এলাকায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শ্রমিকরা নিহত পূর্বসূরিদের স্মরণ করে শোক ও সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন