সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত “বার্ষিক অ্যাথলেটিক্স-২০২৬”। সোমবার (১৮ মে) সকাল ৯টায় শাহজাদপুর ইব্রাহিম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে দিনব্যাপী এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. ফিরোজ আহমদ। পরে জাতীয় সংগীত ও ক্রীড়াবিদদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই বার্ষিক অ্যাথলেটিক্স প্রাণবন্ত ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে বিভিন্ন ট্র্যাক ও ফিল্ড ইভেন্টে অংশ নেন প্রতিযোগীরা। এর মধ্যে ছিল ১০০, ২০০ ও ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট, ৮০০ ও ১৫০০ মিটার দৌড়, বর্শা নিক্ষেপ, গোলক নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ, উচ্চ লম্ফ ও দীর্ঘ লম্ফসহ নানা প্রতিযোগিতা। প্রতিটি ইভেন্টে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও দর্শকদের উপস্থিতি পুরো মাঠকে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরিয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হাসান তালুকদার। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দলগত মনোভাব গড়ে তোলে। তিনি এ ধরনের আয়োজনকে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পাঠদান ও গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। ট্রেজারার প্রফেসর ড. ফিরোজ আহমদও ক্রীড়ার ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) নজরুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ, কেন্দ্রীয় খেলাধুলা ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক জাবেদ ইকবালসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে “বার্ষিক অ্যাথলেটিক্স-২০২৬” এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত পরিবেশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করে।
মন্তব্য করুন