শেকড় আমার মাতৃগর্ভ,
যার পরে আছে নানান পর্ব।
শেকড় আমার মা–বাবা,
যাঁদের সেবায় মেলে কাবা।
শেকড় আমার প্রপিতামহ,
তাঁদের হিসেব রাখে না কেহ।
শেকড় তাঁদের ভাঙা কবর,
যুগ-যুগান্তরে হারায় খবর।
শেকড় আমার মায়ের আঁচল,
ফিরে আসি সেখানে অবিরল।
পৃথিবীজুড়ে যত কোলাহল,
সেই আঁচলেই খুঁজি শান্তির স্থল।
শেকড় আমার বাবার শাসন-তাড়া,
দাদী ও মায়ের মধুমমতার স্নেহের সাড়া।
শেকড় আমার মায়ের শাসন-বুলি,
বটের শেকড়ে আড়ালে দুলি।
ঝড়-ঝঞ্ঝাতে পথ যদি ভুলি,
মায়ের বাণী আঁধারে জ্বালি।
প্রতিবেশীর যত ভালোবাসার বাণী,
স্মৃতির খাতায় লেখা সব রঙিন কাহিনি।
শেকড় আমার পানি-ভাতে,
রসের সিন্নি কলাপাতে।
শেকড় আমার লতাভাজা,
ফালি-পরা নারিকেলে মেলে মজা।
শেকড় আমার শাপলা–শালুক,
চেচড়ির খই, গ্রামের সুখ।
শেকড় আমার শীতের রাতে,
মায়ের হাতের চিতই পিঠাতে।
শেকড় আমার রাতের শেষ প্রহরে,
ঘুমভাঙা পাখির ডাকা মধুর সুরে।
কেউবা শেকড়ের টানে ঘরে ফেরে,
যানবাহনের ভিড় ঠেলে ধীরে ধীরে।
ঈদ-যাত্রায় শেকড়ের টানে,
ছুটে চলে মন বাড়ির পানে।
মানে না বাধা, ঝঞ্ঝা-বানে,
তবু সবাই ফেরে শেকড়ের টানে।
শেকড় আমার আপন নীড়ে,
বাবার ভিটাতে হৃদয় জুড়ায় ধীরে।
যত দূরেই যাক জীবনের পথ,
শেকড়েই বাঁধা থাকে আত্মার জগৎ।
শেকড় ছাড়া নেইকো মান,
যে গায় নয়া ঐতিহ্যের গান।
ক্ষণিক শহুরে রঙে ভুলে প্রাণ,
তবু শেকড় ডাকে বিরামহীন।
শেকড় মানে স্মৃতি, শেকড় মানে টান,
শেকড়েই লুকিয়ে থাকে জীবনের প্রাণ।
অবুঝ পশু-পাখিও খুঁজে নেয় আপন সীমানা,
মানুষ মিথ্যা মোহে হারায় শেকড়ের ঠিকানা।
কাইনাডির (আঞ্চলিক ভাষার শব্দ)= ঘরের পেছনে বাইরের খোলামেলা রন্ধনশালা।
ফালি-পরা নারিকেল (আঞ্চলিক ভাষার শব্দ)= ডাব ও ঝুনা নারিকেলের মধ্যবর্তী অবস্থা। নরম শ্বাস সুস্বাদু খাবার।
চেচড়ি= বদ্ধ পানিতে জন্মানো এক ধরনের উদ্ভিদ যার গোলাকৃতি ছোট বীজ শুকিয়ে খই ভাজা যায়।
লাতাভাজা = ভাঙা চাল বা চালের ছোট অংশ ও ফালি-পরা নারিকেল দিয়ে তৈরী হালকা শুকনা খাবার।
মন্তব্য করুন