মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় লোকালয়ের একটি চারতলা ভবনের শৌচাগার (ওয়াশরুম) থেকে বিপন্ন প্রজাতির একটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলার সাতগাঁও চৌমুহনা এলাকার একটি বাসা থেকে প্রাণীটি উদ্ধার করে পরে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সাতগাঁও চৌমুহনা এলাকার সফেদ মিয়ার চারতলা ভবনের একটি শৌচাগারে পরিবারের সদস্যরা অদ্ভুত আকৃতির একটি প্রাণীকে দেখতে পান। প্রাণীটি সেখানে নিস্তেজ অবস্থায় বসে ছিল এবং খুব ধীরগতিতে নড়াচড়া করছিল। কখনো কখনো মাথা তুলে চারপাশে তাকাচ্ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা প্রাণীটি পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হন যে এটি একটি বিপন্ন প্রজাতির লজ্জাবতী বানর। পরে সেটিকে সতর্কতার সঙ্গে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, বনভূমি ব্যাপকভাবে উজাড় হয়ে যাওয়ার কারণে বন্যপ্রাণীদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে এসব প্রাণী প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে। তিনি বলেন, “উদ্ধার হওয়া লজ্জাবতী বানরটি একটি আন্তর্জাতিকভাবে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। আমরা এটিকে নিরাপদভাবে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছি।”
স্থানীয় পরিবেশবিদরা মনে করছেন, বনাঞ্চল ধ্বংস ও খাদ্য সংকটের কারণে শ্রীমঙ্গলসহ আশপাশের এলাকায় বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা বাড়ছে। এতে একদিকে যেমন প্রাণীগুলো ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
এদিকে বন বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া লজ্জাবতী বানরটির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শেষে যদি এটি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকে, তাহলে সেটিকে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে—সম্ভবত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বা সংরক্ষিত বনে—অবমুক্ত করা হবে।
স্থানীয়রা বন্যপ্রাণী রক্ষায় আরও সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে এবং বিপন্ন প্রাণীদের অস্তিত্ব আরও হুমকির মুখে পড়বে।
মন্তব্য করুন