নড়াইল জেলা থেকে নিখোঁজ হওয়া আয়েশা করিম (১১) নামে এক কিশোরীকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব-৯ ও পুলিশ। যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে।
শনিবার (১৬ মে) শ্রীমঙ্গল আঞ্চলিক কার্যালয়ের র্যাব-৯ এবং বড়লেখা থানা পুলিশের একটি যৌথ দল বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আয়েশাকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া আয়েশা করিম নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার বাসিন্দা এবং সিঙ্গাপুর প্রবাসী জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৫ মে) নিজ এলাকা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় আয়েশা। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। মেয়ের হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে লোহাগড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের জিডি হওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আয়েশার অবস্থান শনাক্ত করা হয় মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায়। এরপর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৯ ও বড়লেখা থানা পুলিশের যৌথ দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে আয়েশা করিমকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার অভিযানের পর তাকে বড়লেখা থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
বড়লেখা থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, “লোহাগড়া থানায় দায়েরকৃত জিডির সূত্র ধরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নিখোঁজ কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে র্যাব-৯ ও পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা করে দক্ষিণভাগ এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন দ্রুত তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপের কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যেই কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আয়েশার পরিবার। প্রবাসী বাবা জসিম উদ্দিনের পরিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, “নিখোঁজের পর আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেয়েকে ফিরে পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে র্যাব ও পুলিশ আবারও প্রমাণ করেছে যে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
মন্তব্য করুন