মৌলভীবাজারে সংঘটিত এক ডাকাতির ঘটনায় ১৩ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেক আসামীকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকার পর এ রায় ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (৫ মে) মৌলভীবাজারের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট নিয়ামুল হক।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভাতাইয়া গ্রামের ছবুর মুন্সির ছেলে মিলন মিয়া, মৃত রইছ আলীর ছেলে রাহেল, ঘড়গাঁও গ্রামের মৃত আয়ছর মিয়ার ছেলে দুলাল, ইলিয়াছ আলীর ছেলে শাহেদ ওরফে আবু জাফর, মৃত জঙ্গুর ছেলে সেলিম, দক্ষিণ রাউৎগাঁও গ্রামের মো. সুরুজ মিয়ার ছেলে সাতির ওরফে সাকিল, ঘড়গাঁও গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে জুনাব আলী, উত্তর বর্ণি গ্রামের মো. মানিক মিয়ার ছেলে কামাল, সুরমান আলীর ছেলে মকরম ওরফে হাজী, মৃত প্রফুল্ল দাসের ছেলে নকুল ওরফে সুমন, বড়তল গুচ্ছ গ্রামের সফাত আলীর ছেলে খোকন, সুজানগর গ্রামের আ. রউফের ছেলে জাকারিয়া এবং বড়লেখা উপজেলার গৌরনগর গ্রামের মনজির আলীর ছেলে জামাল।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে তিনজন আসামী উপস্থিত ছিলেন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বাকি আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কর্মদা গ্রামের বাসিন্দা মো. মারুফ আহমদের বাড়িতে ২০০৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় প্রদান করলেন।
এ ঘটনায় ডাকাতির পাশাপাশি ধর্ষণের অভিযোগও ছিল। তবে ওই অভিযোগে পৃথক চার্জশিট দাখিল হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আলাদা মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট নিয়ামুল হক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক রায়। ডাকাতি শুধু সম্পদের ক্ষতি করে না, এটি মানুষের নিরাপত্তা ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এমন কঠোর শাস্তি অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় পর হলেও এ রায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে।
মন্তব্য করুন