পানছড়ি বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-এ দীর্ঘ তিন দশক ধরে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন শেষে সম্মানিত ইমামকে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় মুসল্লিরা। শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত আবেগঘন অনুষ্ঠানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়।
বিদায় অনুষ্ঠানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা ইমামের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, তাকওয়া, ধর্মীয় জ্ঞান, মানবিকতা ও সমাজ গঠনে তার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে বিদায়ী ইমামের হাতে সম্মাননা স্মারক ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত মুসল্লিরা করতালির মাধ্যমে তাকে সম্মান জানান। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। অনেক মুসল্লিকে অশ্রুসিক্ত চোখে প্রিয় ইমামকে বিদায় জানাতে দেখা যায়।
বক্তারা বলেন, একজন ইমাম শুধু মসজিদে নামাজ পরিচালনাকারী ব্যক্তি নন; তিনি সমাজের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক। মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সততা, নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে একজন ইমামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদায়ী ইমাম দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে পানছড়ি বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এলাকার মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, তার সুমধুর কণ্ঠে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, সুন্দর বয়ান ও বিনয়ী আচরণ সবাইকে মুগ্ধ করত। তিনি সবসময় মানুষকে শান্তি, সম্প্রীতি ও ইসলামের সঠিক শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানাতেন। এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় নানা কার্যক্রমেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বিদায় অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল তাকে প্রাইভেটকারে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার আয়োজন। মুসল্লি ও স্থানীয়রা ভালোবাসা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে তাকে গাড়িবহরের মাধ্যমে বিদায় জানান। এ সময় অনেকেই প্রিয় ইমামের সঙ্গে স্মৃতিচারণ করেন এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিনের প্রিয় ইমামের বিদায়ে পুরো এলাকায় এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তার আন্তরিকতা, মানবিক আচরণ ও ধর্মীয় খেদমতের স্মৃতি পানছড়িবাসীর হৃদয়ে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, বিদায়ী ইমামের অবদান কখনও ভোলার নয়। তিনি শুধু একজন ইমাম ছিলেন না, বরং এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক ও একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার দেখানো আদর্শ ও শিক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
মন্তব্য করুন