
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় এক নারী উদ্যোক্তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে সেই ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) ভোরে উপজেলার মহিচাইল সরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— মহিচাইল বাজার এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে গাড়িচালক মো. রুবেল (২৮) এবং একই এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. জামাল (৪০)।
ভুক্তভোগী নারী জানান, স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পার্লারের কাজ শিখে মহিচাইল বাজারে একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করে আসছেন। তার অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে অভিযুক্ত রুবেল ও জামাল তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তিনি তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার নামে ভুয়া ও অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। একই সঙ্গে তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী উদ্যোক্তা।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে অভিযুক্তরা তার বিউটি পার্লারে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তাকে শ্লীলতাহানি করে। এ সময় তারা পুরো ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে এবং পরে সেটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
ঘটনার পর আতঙ্কিত অবস্থায় ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। পরে থানায় গিয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও সংরক্ষণ, মর্যাদাহানির উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নারী উদ্যোক্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন