দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ১২ বছরের একটি শিশু ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। ঘটনাটি আড়াল করতে অভিযুক্ত ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুটিকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে শিশুটি এখন উপযুক্ত বিচার চায়।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকালে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা শিশুটির উপযুক্ত বিচার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দাবি জানান।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে নানির জন্য দোকান থেকে পান আনতে যাওয়ার পথে একই এলাকার নূর ইসলাম (৬৫) শিশুটিকে মুখ চেপে ধরে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে বিষয়টি আড়াল করতে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েকবার তাকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত।
এক মাস আগে শিশুটির মামি তাকে অস্বাভাবিক দেখতে পান। জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি সব ঘটনা খুলে বলে। বিষয়টি জানাজানি হলে সপ্তাহখানেক আগে স্থানীয়দের মাধ্যমে মীমাংসার নামে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়। অভিযুক্ত নূর ইসলামের সঙ্গে শিশুটির কথিত বিয়ে দেওয়া হয়। একটি খাতায় শিশুটির সই নিয়ে বলা হয়, বিয়ে হয়ে গেছে। বিনিময়ে দেড় লাখ টাকা মোহর ও দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় অভিযুক্ত।
মেয়েটির মা বলেন, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গ্রামের সবাই মিলে দুই জনের বিয়ে দেয়। মেয়েটির বাবা বলেন, হঠাৎ করেই আমি জানতে পারি, আমার মেয়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমার মেয়ের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ।
ভুক্তভোগী শিশুটি বলে, “আমি এ ঘটনার বিচার চাই। মীমাংসার নামে আমাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
অভিযুক্ত নূর ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তালা দেওয়া দেখতে পাওয়া যায়। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকালেই বাড়ি থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি পালিয়ে গেছেন।
এ দিন রাতে ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস ভুক্তভোগীর বাড়ি পরিদর্শন করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এএসপি জানান, শিশুটিকে ধর্ষণের পর লোকলজ্জার ভয়ে এবং দেড় লাখ টাকা ও দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাজি ডেকে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয় কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কথা না রাখায় বিষয়টি জানাজানি হয়।
তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আপস-মীমাংসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন