বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিতে আফ্রিকায় অফশোর ক্যাম্পাস স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সোমালিয়ার দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য ও প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আসিফ মিজান। তিনি বলেছেন, আফ্রিকার উদীয়মান শিক্ষা-বাজারে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষা-কূটনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
শুক্রবার রাজধানীর শেরাটন হোটেল-এ আয়োজিত “৪র্থ এইউবিআইসি-২০২৬ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স”-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। Asian University of Bangladesh আয়োজিত “গুড গভর্ন্যান্স, জাস্টিস অ্যান্ড এথিক্যাল লিডারশিপ” শীর্ষক এ আন্তর্জাতিক সেমিনারে দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন-এর সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আবুল হাসান এম. সাদেক।
বক্তব্যে ড. আসিফ মিজান বলেন, সোমালিয়ায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী ও পেশাজীবীদের ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশটির মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি গভীর আস্থা ও সম্মান তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “আফ্রিকার শিক্ষা-প্রশাসনে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়া আমার জন্য গর্বের। আমি চাই এই সুসম্পর্ককে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী অ্যাকাডেমিক অংশীদারিত্বে রূপ দিতে।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান ও কারিকুলামের প্রতি সোমালিয়ার শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এ আগ্রহকে কেন্দ্র করেই সম্প্রতি দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে যৌথ গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় এবং আন্তঃসীমান্ত শিক্ষা সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ড. আসিফ মিজান বলেন, “সোমালিয়ায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের একটি অফশোর ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও অনুমোদন দিলে এটি হবে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মেধা ও শিক্ষাগত উৎকর্ষ রপ্তানির ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।”
বক্তারা বলেন, উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের “সফট পাওয়ার” বৃদ্ধি করার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকার মতো উদীয়মান অঞ্চলে বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপস্থিতি দেশের কূটনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করবে।
সেমিনারে অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি গবেষক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও গণমাধ্যমকর্মীরা শিক্ষা, সুশাসন ও নৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে বৈশ্বিক সমাজ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে বক্তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন