পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলী ইউনিয়নের পশ্চিম আজিমপুর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন ও তার পরিবার। এ সময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সম্প্রতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করেন, স্থানীয় আমির হোসেন ও তার ছেলে ইমরানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে প্রায় দেড় মাস আগে তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার সময় তাকে ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয় এবং তার পা থেঁতলে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে কুয়াকাটা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরলেও অভিযুক্তদের হুমকি ও হয়রানি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন জয়নাল আবেদীন।
নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ির সামনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন বলে জানান তিনি। তবে গত ১৬ মে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে অভিযুক্ত ইমরান ও তার এক চাচাতো ভাই বাড়ির সামনে থাকা সিসি ক্যামেরা ভেঙে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে বাড়ির বাথরুমের লাইটও খুলে নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ক্যামেরা ভাঙার ঠিক আগ মুহূর্তের একটি ছবি মোবাইল অ্যাপে সংরক্ষিত রয়েছে। সেই ছবির সূত্র ধরেই তারা অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে জয়নাল আবেদীন ও তার দুই ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। পরিবারটির ভাষ্য, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য বা ছবি প্রকাশ করলে আবারও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন অভিযুক্তরা।
জয়নাল আবেদীন আরও বলেন, “আমার ও আমার পরিবারের কোনো ক্ষতি হলে এর জন্য ইমরান, তার বাবা আমির হোসেন, চাচা আনছার ও আনোয়ার দায়ী থাকবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিনিয়ত ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এ ঘটনায় মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কুয়াকাটা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে পরিবারটি তাদের অভিযোগ তুলে ধরে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মন্তব্য করুন