কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ গুলি, ম্যাগাজিন এবং ৪৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোররাতে পরিচালিত এ অভিযানে ক্যাম্প এলাকায় মাদক ও অস্ত্র কারবারের একটি সক্রিয় চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর পৌনে ৪টার দিকে লাম্বাশিয়া ক্যাম্পের অপারেশন ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জানে আলম মুনশীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম ক্যাম্প-১ (ইস্ট) এলাকার ব্লক-সি/১৫ এ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকার বাসিন্দা এফসিএন নং-১৬২২০৮ এর রোহিঙ্গা নাগরিক মৃত নজির আহমদের ছেলে দিল মোহাম্মদের বসতবাড়িতে ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগে তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে ক্যাম্প-১ (ওয়েস্ট), ব্লক-সি/৯ এলাকার এফসিএন নং-১৪৯৪৭৮ এর শামসুল আলমের ছেলে মোঃ জাহিদ হোসেন (৩৮) কে আটক করা হয়। পরে তার শরীর তল্লাশি করে পরিহিত লুঙ্গির কোমরের পেছনে গোঁজা অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও তার লুঙ্গির সামনের অংশে রাখা কালো পলিথিন মোড়ানো আরও দুটি ম্যাগাজিন এবং ২২ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার কাঁধে ঝোলানো একটি কালো ব্যাগ তল্লাশি করে চারটি পলিব্যাগে মোড়ানো ৪০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
একই অভিযানে এফসিএন নং-১৬২২০৮ এর দিল মোহাম্মদের স্ত্রী নুর সেহেরা (১৮) এর পরিহিত সেলোয়ারের কোচা থেকে আরও ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ক্যাম্প-১ (ইস্ট) এর ব্লক-এ/৪ এলাকার এফসিএন নং-৬২২৯৮৮ এর মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আব্দুল হামিদ (৩২) এর লুঙ্গির কোচা থেকে ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জব্দকৃত ইয়াবার পরিমাণ ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ক্যাম্প এলাকায় মাদক পাচার, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
এ বিষয়ে লাম্বাশিয়া পুলিশ ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি নং-৩৮৪, তারিখ ১৮/০৫/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ মূলে মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় মাদক ও অস্ত্র কারবার নির্মূলে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন