রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় ফিল্মি স্টাইলে এক বিবাহিত ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে শাকিল শুভ নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ, এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শাকিল শুভ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ঘৃলই চৌধুরীপাড়া এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল আজিজের ছেলে। স্থানীয় কচুবাড়ি মাদ্রাসায় কর্মরত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিষয়টি জানার পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার বিবাহিত মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে শাকিল শুভ প্রাইভেট যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করত এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখাত। একাধিকবার নিষেধ করার পরও সে থামেনি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার দিন, গত ১৪ মে, ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বদরগঞ্জ পৌর শহরের আম্বিয়ার মোড় এলাকায় যাচ্ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় শাকিল শুভ তাকে পথরোধ করে জোরপূর্বক প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে মেয়ে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন যে, তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এরপর ভুক্তভোগীর মা অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে সেখানে হামলার শিকার হন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল আজিজ ও তার স্ত্রী শাহানাজ বেগম তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
পরে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তবে অভিযোগ করার সাত দিন পার হলেও এখনো ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তারা।
এদিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি আরিফুল ইসলাম বলেন, শাকিল শুভ একজন বেপরোয়া স্বভাবের ছেলে এবং তার বিরুদ্ধে আগেও নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা আছে। তিনি দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত বলে শোনা যায়। তারা আরও দাবি করেন, তার আচরণ নিয়ন্ত্রণে পরিবারের ভূমিকা দুর্বল ছিল।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মেরাজ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। তিনি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান জাহিদ সরকার বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চলছে।”
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত সমাধান ও ভুক্তভোগীর নিরাপদ উদ্ধার দাবি করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন