পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় গুজব ছড়িয়ে দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, জুয়া ও মাদক সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হন তেঁতুলিয়া মডেল থানার দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। এ ঘটনায় আহত দুই পুলিশ সদস্য বর্তমানে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের সংগঠন ও মূর্খাজোত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায়।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— তেঁতুলিয়া মডেল থানার এএসআই সোহেল ও এএসআই তুহিন। বিষয়টি রাতে নিশ্চিত করেছেন তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এএসআই সোহেল ও তুহিন সিভিল পোশাকে মোটরসাইকেলযোগে ওই এলাকায় যান। তাদের দায়িত্ব ছিল ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের অবস্থান যাচাই, জুয়া ও মাদক সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।
এ সময় সীমান্তসংলগ্ন সড়ক দিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলি যাওয়ার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্য মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে যান। স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় ট্রলিতে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু করেন তারা।
কিন্তু উদ্ধার তৎপরতা চলাকালীন হঠাৎ করে এলাকায় একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কিছু উৎসুক জনতা ও দুষ্কৃতকারী দাবি করতে থাকে, পুলিশের উপস্থিতির কারণেই ট্রলিটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা দুই পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে তাদের ওপর চড়াও হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা এএসআই সোহেল ও তুহিনকে কিল-ঘুষি মারাসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। আকস্মিক এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আহত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর দেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা দুই এএসআইকে উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন, “ওই দুই পুলিশ সদস্য সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছেন, গুজবের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে গুজব প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন