
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬কে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি জেলার ২৯৮ নং সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। জোটগত সিদ্ধান্তের আলোকে দুইজন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এই আসনে জোট রাজনীতির প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০ দলীয় জোটের শরিক হওয়ায় খাগড়াছড়ি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভূইয়া পাড়ার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে ২৯৮ নং আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
অপরদিকে, একই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করা সোনা রতন চাকমাও তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। উভয় প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি আসনে এবারের নির্বাচনে শুরুতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, জাতীয় পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, এনসিপিসহ মোট ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে এনপিপি ছাড়া ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আজ বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। এই সময়ের মধ্যেই দুইজন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা আরও কমে এসেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খাগড়াছড়ি আসনে এই মনোনয়ন প্রত্যাহার জোটভিত্তিক রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে ১০ দলীয় জোটের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যের প্রতিফলন হিসেবেই এ সিদ্ধান্তকে দেখছেন তারা। এতে ভোটের মাঠে জোটসমর্থিত প্রার্থীর অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে বরাবরই নির্বাচন একটি জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়। সেখানে জোটভিত্তিক সমঝোতা নির্বাচনী পরিবেশকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে। দুই প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের মাধ্যমে সেই সমঝোতার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে খাগড়াছড়ির ২৯৮ নং আসনে জোট রাজনীতির প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিবর্তিত সমীকরণ শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।
মন্তব্য করুন