
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিক গাজী নজরুল ইসলাম সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রেজার সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি গোলাম রেজার বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গোলাম রেজা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে উৎসারিত। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও ব্যক্তিগত চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, “গোলাম রেজার বক্তব্য কোনো দায়িত্বশীল রাজনীতিকের ভাষা হতে পারে না। এটি তার রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও জনবিচ্ছিন্নতার প্রতিফলন। সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন এবং নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই তিনি এ ধরনের অসংলগ্ন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন দায়িত্বহীন ও অসংযত বক্তব্য জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য লজ্জাজনক। গণতান্ত্রিক সমাজে মতভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু মিথ্যাচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, সাতক্ষীরা অঞ্চলে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সবসময় স্বচ্ছতা, সততা ও জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জনগণের অধিকার, উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে তিনি আপসহীন ছিলেন। তার এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, “মিথ্যা প্রচার ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে সত্যকে আড়াল করা সম্ভব নয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয়, সময়ের ব্যবধানে তারাই রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণ এখন সচেতন। বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা ব্যর্থ হবে। যারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে এখন অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দিচ্ছেন, সময়ই তাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দেবে।
বিবৃতির শেষাংশে গাজী নজরুল ইসলাম রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দায়িত্বশীল রাজনীতিকদের উচিত সত্যনিষ্ঠ, তথ্যভিত্তিক ও গঠনমূলক বক্তব্য প্রদান করা। একই সঙ্গে তিনি সাতক্ষীরার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনই তার রাজনীতির মূল শক্তি।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতেও জনগণ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয় করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং অপপ্রচারের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করবে।
মন্তব্য করুন