
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জননেতা গাজী নজরুল ইসলাম। বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) সাতক্ষীরা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের মাধ্যমে তাকে এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে শ্যামনগর আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রতীক পাওয়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম দলীয় নেতৃবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শ্যামনগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রতীক প্রাপ্তির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন,
“দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ন্যায়বিচার, অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতীক। শ্যামনগরের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমি সবসময় কাজ করতে চাই। ইনশাআল্লাহ, জনগণই হবে আমার একমাত্র শক্তি।”
তার এই বক্তব্যের পরপরই শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। প্রতীক প্রাপ্তির খবরে বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, স্লোগান, মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষও এসব কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাজী নজরুল ইসলাম একজন সৎ, যোগ্য, অসাম্প্রদায়িক ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে শ্যামনগরে পরিচিত। তারা মনে করেন, তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে এই অঞ্চলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও বেগবান হবে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলেও স্থানীয়দের প্রত্যাশা।
প্রতীক পাওয়ার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে নির্বাচনী মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণার প্রস্তুতি শুরু করেছেন গাজী নজরুল ইসলাম। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী দিনগুলোতে তিনি গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভা ও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন তিনি।
উল্লেখ্য, শ্যামনগর উপজেলা সাতক্ষীরা জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি সবসময়ই রাজনৈতিকভাবে আলোচিত। প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও জমে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এখন দেখার বিষয়, ভোটারদের আস্থা অর্জনে কে কতটা সফল হতে পারেন।
মন্তব্য করুন