২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিধ্বংসী পরাজয় ব্রাজিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই ম্যাচের স্মৃতি আজও ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, মিম কিংবা কোনো দলের সাত গোল করার ঘটনা ঘটলেই ফিরে আসে ব্রাজিলের সেই ‘সেভেন আপ’-এর প্রসঙ্গ।
বর্তমানে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আবারও আলোচনায় এসেছে ‘সেভেন আপ’। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল দল হাইতিকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করে জার্মানি নতুন করে সাত গোলের ইতিহাস লিখেছে। আর তাতেই আবারও সামনে এসেছে ব্রাজিলের ২০১৪ সালের সেই দুঃস্বপ্ন।
তবে ‘সেভেন আপ’ কেবল ব্রাজিলের লজ্জার স্মৃতি নয়, গৌরবেরও অংশ। কারণ বিশ্বকাপ ইতিহাসেই সাত গোলের বড় জয় রয়েছে সেলেসাওদের ঝুলিতে।
আগামীকাল গ্রুপ ‘সি’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় সমালোচনার মুখে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে হাইতি স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ব্রাজিলের জন্য ম্যাচটি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় সুযোগ। এখন পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে তিনবার মুখোমুখি লড়াই হয়েছে এবং প্রতিবারই জয় পেয়েছে ব্রাজিল। শুধু জয়ই নয়, তিন ম্যাচে হাইতির জালে তারা দিয়েছে ১৭ গোল, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র একটি।
দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯৭৪ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে, যেখানে ব্রাজিল ৪-০ গোলে জয় পায়। এরপর ২০০৪ সালে আরেক প্রীতি ম্যাচে হাইতিকে ৬-০ গোলে হারায় সেলেসাওরা।
সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইটি হয় ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায়। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হাইতিকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেয় ব্রাজিল। ম্যাচটিতে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ফিলিপে কৌতিনহো। এছাড়া গোল করেছিলেন রেনাতো অগুস্তো, গ্যাব্রিয়েল বারবোসা ও লুকাস লিমা।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপেও সাত গোলের গৌরবময় স্মৃতি রয়েছে ব্রাজিলের। ১৯৫০ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে সুইডেনকে ৭-১ গোলে পরাজিত করেছিল সেলেসাওরা। ফলে ‘সেভেন আপ’ শব্দটি যেমন ব্রাজিলের জন্য ২০১৪ সালের বেদনাদায়ক স্মৃতি বহন করে, তেমনি ইতিহাসের পাতায় এটি তাদের বড় জয় ও গৌরবেরও সাক্ষী।
মন্তব্য করুন