
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বাড়াতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। জোংড়া ইউনিয়নের মমিনপুর ব্লকে কৃষকরা সরিষার পাশাপাশি বোরো ও রোপা আমন চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
স্থানীয় কৃষক সায়েম হাবীব সোহাগ জানিয়েছেন, “আগে এই জমিতে বছরে দুইটি ফসল উৎপাদন হতো। এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে সরিষার সঙ্গে বোরো ও রোপা আমন চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। এতে উৎপাদন ও লাভ দু’ই বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।”
মমিনপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান জানিয়েছেন, সরিষা চাষের পর একই জমিতে পর্যায়ক্রমে বোরো ধান এবং পরে রোপা আমন চাষ করা হবে। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং আবাদযোগ্য জমির উর্বরতা বজায় থাকবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, “সরিষা–বোরো–রোপা আমন ফসল চক্র চালুর মাধ্যমে দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। এটি শুধুমাত্র উৎপাদন বাড়াবে না, কৃষকের আয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যদি এই পদ্ধতি সফল হয়, তবে উপজেলায় আরও কৃষক আধুনিক ও লাভজনক চাষাবাদের দিকে এগোবেন।”
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগ সরকারের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মসূচির অংশ। এর লক্ষ্য শুধু খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো নয়, পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও সহায়ক হওয়া। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ত্রিফসলি চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রামের কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
এ ধরনের কার্যক্রম উপজেলায় কৃষি আধুনিকায়ন ও লাভজনক চাষাবাদের উদাহরণ হিসেবে সামনে আসছে। কৃষকরা আশা করছেন, সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে সরিষা ও ধানের সরবরাহ বাড়বে, যা বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মমিনপুর এলাকায় এই তিন ফসলি চাষ কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে অন্যান্য কৃষকও আগ্রহী হচ্ছেন। ধাপে ধাপে এই পদ্ধতি পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে দিলে কৃষি উৎপাদন এবং কৃষকের আয় দু’ই বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন