পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে ছাগল, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
“দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার নিবন্ধিত ২০ জন জেলের মাঝে মোট ৮০টি ছাগল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি উপকারভোগীদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও ছাগল পালনের প্রয়োজনীয় ঔষধও সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ জেলেদের বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করবে এবং তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রুহুল আমীন দুলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আকলিমা আক্তার।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, মৎস্যজীবী প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপকারভোগী জেলেরা সরকারের এমন সহায়তা কার্যক্রমকে স্বাগত জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোঃ রুহুল আমীন দুলাল বলেন, “দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ সম্পদ রক্ষায় সরকার নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। নদী-খাল ও জলাশয় রক্ষার পাশাপাশি জেলেদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের দিকেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। জেলেরা যেন বিকল্প আয়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে লক্ষ্যে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, জলজ সম্পদ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জেলেদের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার বলেন, “জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। শুধু মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারলে তাদের জীবন আরও স্থিতিশীল হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জেলেরা উপকৃত হবেন বলে আমরা আশা করছি।”
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশীয় মাছ ও শামুক সংরক্ষণে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন জলজ সম্পদ সংরক্ষণে সহায়ক হবে, অন্যদিকে জেলেদের দারিদ্র্য বিমোচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় সচেতন মহল সরকারের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রান্তিক জেলেদের জন্য এমন সহায়তা কার্যক্রম নিয়মিত বাস্তবায়ন করা হলে তারা আর্থিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন এবং দেশীয় মাছ ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণেও আগ্রহী হবেন।
মন্তব্য করুন