
আটককক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম আশরাফুল হোসেন সজীব (৩৫)। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উলুবোনিয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ অস্ত্র বহন ও তৈরি কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফুল হোসেন সজীব যৌথ বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। প্রাপ্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ এলাকা থেকেই আটক করা হয়। অভিযানের সময় তার হেফাজত থেকে ১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪ রাউন্ড কার্তুজ, ২টি দেশীয় ধারালো দা, ৯টি লিড স্প্লিন্টার, গান পাউডার এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আটককৃত সজীব স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রের কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল এবং জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল।
সূত্র আরও জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬কে সামনে রেখে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আশরাফুল হোসেন সজীবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পৃথক মোট চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র রাখা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলাগুলোর পাশাপাশি উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘটনায় নতুন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলে এলাকায় সন্ত্রাস ও অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।
মন্তব্য করুন