
নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে বগুড়া শহরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা, উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ এবং শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম পুনরায় চালু করার অঙ্গীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে ১০ দলের সমন্বয়ে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জনগণের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করতে চায় জামায়াতে ইসলামী। তিনি জানান, দল ক্ষমতায় এলে এককভাবে নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সকলকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করা হবে। বিভেদ নয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিই হবে আগামীর বাংলাদেশের ভিত্তি।
বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একদল ক্ষমতায় আসার আগে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বাস্তবে মানুষ সেই প্রতিশ্রুতির কোনো ফল পায়নি। দেশের মানুষ আর রাজনৈতিক প্রতারণা দেখতে চায় না।”
জামায়াত আমির আরও বলেন, দল ক্ষমতায় এলে নারীদের নিরাপদ চলাচল, কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি যুব সমাজের বেকারত্ব দূর করতে কার্যকর ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে জামায়াত চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অবৈধ দখলদারির স্থান থাকবে না।
বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
এছাড়া বক্তব্য দেন বগুড়া জেলার সাতটি সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা এবং বগুড়া অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন