
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নাটোর-২ (নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কঠিন রাজনৈতিক লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পরদিন থেকেই প্রার্থীরা মাঠে নেমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।
নাটোর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে নাটোর-২ আসনে এবার বিএনপি ও জামায়াতসহ মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, একাধিক প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারের কৌশল ও সময়সূচি আগেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। নির্বাচনী মাঠে দুই দলই শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে তৎপরতা চালাচ্ছে।
বিএনপি সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ও তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, দলের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ব্যাপক জনপ্রিয়। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে অন্য প্রার্থীরা তেমন প্রভাব ফেলতে পারবেন না বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে জামায়াত নেতাকর্মীদের ভাষ্য, অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার তাদের প্রার্থী বাড়তি সুবিধায় রয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলী বিজয়ের দিকে এগিয়ে থাকবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
এছাড়াও নাটোর-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাহমিদা ইসলাম তানিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মো. নূরন্নবী মৃধা, জাতীয় পার্টির প্রার্থী রকিব উদ্দিন (কমল) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী।
সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও দখলদারিত্ব ইস্যু। পাশাপাশি প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার, অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত আচরণও ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
মন্তব্য করুন