আসন্ন পার্থর্শী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামালপুরের ইসলামপুরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, চায়ের দোকান, মেম্বার ও সাধারণ মানুষের আড্ডায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন পার্থর্শী ইউনিয়নের সন্তান ও বিএনপি নেতা শফিউল্লাহ বুলবুল।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সততা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং মানুষের বিপদে পাশে থাকার কারণে শফিউল্লাহ বুলবুলের প্রতি তাদের আগ্রহ রয়েছে।
ইসলামপুর কলেজের সাবেক নির্বাচিত জিএস (সাধারণ সম্পাদক) শফিউল্লাহ বুলবুল ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর সহযোগিতায় মলমগঞ্জ কলেজ প্রতিষ্ঠায় তিনি অন্যতম ভূমিকা পালন করেন বলে জানা গেছে। তিন ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে বেড়ে ওঠা শফিউল্লাহ বুলবুল মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাকে নিজের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে দেখেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান।
ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁর প্রার্থিতাকে ঘিরে আগ্রহের কথা জানা গেছে। মুখশিমলা গ্রামের কয়েকজন তৃণমূল বিএনপি নেতা বলেন, চেয়ারম্যান পদে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তি নির্বাচিত না হলে এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাদের মতে, পার্থর্শী ইউনিয়নে শফিউল্লাহ বুলবুল সেই দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত হতে পারেন।
রৌহারকান্দা গ্রামের খলিফা দেলোয়ার বলেন, “শফিউল্লাহ বুলবুল একজন পরীক্ষিত নেতা। বিগত সরকারের আমলে চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন সরকার চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে বিজয়ী হতে দেয়নি।”
তবে এ বক্তব্যটি তাঁর ব্যক্তিগত দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এর স্বতন্ত্র যাচাই করা হয়নি।
হারিয়াবাড়ী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওয়াহেদ স্যার বলেন, “শফিউল্লাহ বুলবুল সৎ, নিষ্ঠাবান ও জনবান্ধব নেতা। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে পার্থর্শী ইউনিয়নের মানুষের প্রত্যাশা এবং এলাকার বিভিন্ন চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে শফিউল্লাহ বুলবুল বলেন, “পার্থর্শী ইউনিয়নের অবহেলিত মানুষের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য। জনগণের ভালোবাসা নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে এলাকার শিক্ষার হার বৃদ্ধি, জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করব। পাশাপাশি পার্থর্শী ইউনিয়নকে আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রধান অঙ্গীকার।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থিতা ও নির্বাচনী কার্যক্রম আরও স্পষ্ট হলে পার্থর্শী ইউনিয়নের ভোটাররা নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নেবেন।
মন্তব্য করুন