
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সফল বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও দেশীয় মদসহ দুই সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর এলাকায় লক্ষীছড়ি জোন (গুইমারা রিজিয়ন)-এর আওতাধীন ফটিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প পৃথক দুটি টার্গেটে একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানটি অত্যন্ত কৌশলগতভাবে পরিচালিত হওয়ায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সন্ত্রাসীদের আটক করতে সক্ষম হয় সেনাসদস্যরা।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন মোঃ রফিক (৫৫) ও মোঃ মঈন উদ্দিন (৩৬)। তারা উভয়েই আব্দুল মালেকের সন্তান এবং চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা। ডাকঘর আজাদী বাজার, থানা ফটিকছড়ি এলাকায় তাদের স্থায়ী ঠিকানা বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় অবৈধ অস্ত্র মজুদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযান চলাকালে সেনাবাহিনী আটককৃতদের বসতবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে দুটি শটগান, একটি পিস্তল, একটি এয়ারগান, একটি ডামি পিস্তল, একটি .৩০৩ ক্যালিবার গুলি, একটি শটগানের গুলি, তিনটি ফায়ারকৃত শটগানের কার্তুজ, ১০০টি এয়ারগানের গুলি, পাঁচটি ধারালো দা, একটি বিদেশি চাকু, একটি ড্যাগার এবং চার লিটার দেশীয় মদ। এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, আটককৃত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের ফটিকছড়ি থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অস্ত্র সংগ্রহ ও ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের যেকোনো এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণও সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন