
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬কে সামনে রেখে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যেখানে ভোটগ্রহণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন ইনস্টিটিউট, আগারগাঁও, ঢাকা এর উদ্যোগে এবং উপজেলা নির্বাচন অফিস, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও এর বাস্তবায়নে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে ভোটগ্রহণ কার্যক্রমের সার্বিক প্রস্তুতি, আইনগত কাঠামো ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জনাব ইফরাত পারভেজ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মূল দায়িত্ব ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ওপরই বর্তায়। দায়িত্ব পালনে সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাবকে প্রশ্রয় না দিয়ে আইন ও বিধি অনুসরণ করে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন। তিনি নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচন অফিসার ওয়ালিউল্লাহ, যিনি নির্বাচন পরিচালনার নিয়মাবলি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিদ হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন একটি সংবিধানিক দায়িত্ব এবং এর সফল বাস্তবায়নে প্রত্যেক ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দিকনির্দেশনা বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার জন্য তিনি সকল কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানান।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ, ব্যালট ও ইভিএম ব্যবস্থাপনা, ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের সহযোগিতা, আচরণবিধি মেনে দায়িত্ব পালন এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষকরা বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়গুলো সহজভাবে উপস্থাপন করেন, যাতে কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা জানান, এই ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয় এবং নির্বাচন পরিচালনায় পেশাদারিত্ব বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সার্বিকভাবে, প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬কে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন