
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি এনেছেন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ড. ফয়জুল হক। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি, ২০২৬) ঝালকাঠির আমুয়ায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি ঘোষণা করেন, জামায়াতে ইসলামী কেবল ভোটের রাজনীতির জন্য নয়, বরং সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে। তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির আগে বা পরে নয়, জামায়াতের নেতা-কর্মীরা সারা জীবন মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে।”
আমুয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এই নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. ফয়জুল হক তার দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো এমপি প্রার্থী সন্ত্রাস, নৈরাজ্য বা চাঁদাবাজদের নিয়ে পথ চলে না। আমাদের রাজনীতি হচ্ছে মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অন্য দলগুলো যখন পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসকে পুঁজি করে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে, তখন জামায়াত মানুষের ভালোবাসা ও নৈতিকতার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে মাঠে রয়েছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ড. ফয়জুল হক প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমাদের জনপ্রিয়তা দেখে প্রতিপক্ষরা ভয়ে কাতর হয়ে পড়েছে। তাদের পায়ের তলার মাটি সরতে শুরু করেছে। একারণেই তারা এখন হুমকি-ধমকি ও ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন যে, নারী কর্মীদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার জন্য নানামুখী চক্রান্ত চলছে। তবে উপস্থিত বিশাল জনসমুদ্রের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “জনগণের এই উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে, কোনো বাধা বা ষড়যন্ত্রই আমাদের বিজয়কে রুখতে পারবে না।”
কাঁঠালিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাস্টার মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আমুয়া বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা সংহতি প্রকাশ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট মোঃ হাফিজুর রহমান, জেলা শিবিরের সভাপতি মোঃ এনামুল হক, এবং কাঁঠালিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান কামরুল। বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় ১১ দলীয় জোটের জোয়ার দেখে একটি চক্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
সমাবেশ শেষে আমুয়া বন্দরের প্রধান প্রধান সড়কে এক বিশাল নির্বাচনী মিছিল বের করা হয়। মিছিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন, যা এলাকার নির্বাচনী আমেজকে আরও চাঙা করে তোলে। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে।
বক্তারা ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ছাতা/দাঁড়িপাল্লা (জোটের নির্দিষ্ট প্রতীক উল্লেখ্য) প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান জানান। বিপুল উপস্থিতি ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে এই আয়োজনটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
মন্তব্য করুন