
রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার খড়খড়ি এলাকায় এক মর্মান্তিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ১/২/২৬ তারিখ রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদকাসক্ত ছেলে মো. সুমন (৩৮) ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মা সোহাগী খাতুন (৫৫) কে হত্যা করেন। পুলিশ ঘটনার পর সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুমন মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। ঘটনার রাতে তিনি মায়ের কাছে মাদক কেনার জন্য টাকা দাবি করেন। কিন্তু সোহাগী টাকা দিতে অস্বীকার করলে, সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালান। হামলার সময় সোহাগীর ছেলে হৃদয় কাছে উপস্থিত ছিলেন, তবে মা ও ছেলের মধ্যে এই হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে নিহত হন মা। স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলেই সোহাগী গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।
পরবর্তী সময়ে সুমন লাশ নিয়ে অটোরিকশা ডাকতে চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রতিবেশীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে। পুলিশ নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।
চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “নিহত সোহাগীর ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। একমাত্র আসামি সুমন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর চন্দ্রিমা থানার এলাকা তীব্র আতঙ্কে ভরে ওঠে। প্রতিবেশীরা জানান, সুমনের আচরণ দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ছিল এবং মাদকাসক্তির কারণে তার পরিবারে উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। অনেকেই মনে করছেন, যদি স্থানীয় প্রশাসন আগেই হস্তক্ষেপ করত, তবে এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা যেত।
স্থানীয়রা আরও বলেন, “একজন সন্তান তার মা হত্যার মতো বর্বরতা চালাবে, তা কল্পনাও করা যায় না। আমাদের এলাকার জন্য এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা।” তারা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন, তবে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এই ধরনের অপরাধ দমন করা আরও জোরদার হতে হবে।
ঘটনার সামাজিক প্রভাবও প্রতিস্বরণ করেছে। স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, পরিবারের ভেতরের অশান্তি এবং মাদকাসক্তি কিভাবে সম্প্রদায়ের মানসিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তা এই ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে। এছাড়া, সমাজে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের আরও সক্রিয় ভূমিকা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
মোটকথা, রাজশাহীর খড়খড়ি এলাকায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, এটি সামাজিক সচেতনতা এবং মাদক ও জুয়ায় আসক্তি প্রতিরোধের তীব্র বার্তাও বহন করছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এখন আসামি সুমনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার পেছনের অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখছে।
মন্তব্য করুন