
রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। হোয়াইট বোর্ড পেন দিয়ে আঘাত করে ওই শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
চন্দ্রিমা থানা পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মায়ের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী নগরীর ভদ্রা আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর রোডে অবস্থিত ‘বর্ণমালা আদর্শ স্কুল’-এ। অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুলের ভেতরে তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষিকা মোসা. মৌসুমী (২৭) পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সোহানী রহমান স্নেহা (১২)-এর নাকে হাতে থাকা হোয়াইট বোর্ড পেন দিয়ে আঘাত করেন। এতে তার নাকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে রক্তপাত শুরু হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা মোসা. শিমু (২৮) অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঘটনার পরপরই তিনি স্কুলে গিয়ে উচ্চবাচ্য বা প্রতিবাদ করেননি। তবে পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্কুল কর্তৃপক্ষের আচরণ তাকে আরও ভীত করে তোলে। তার অভিযোগ, স্কুলের অধ্যক্ষ মো. মাসুদ আলীসহ আরও দুইজন শিক্ষক তার বাড়িতে গিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি বাইরে জানালে আমার মেয়েকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘বর্ণমালা আদর্শ স্কুল’টি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি তুলনামূলক নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এমন একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় অভিভাবকদের মধ্যে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে নতুন করে ভাবছেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম আনোয়ার হোসেন বলেন,
“শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কোনো শিক্ষার্থীকে আঘাত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একজন স্থানীয় অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“মাত্র কয়েক বছরের পুরোনো একটি স্কুলে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে আমাদের সন্তানরা কতটা নিরাপদ—সেটাই বড় প্রশ্ন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. মাসুদ আলী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
মন্তব্য করুন