
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যে কোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
বুধবার বিকালে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার উদ্দেশ্য ছিল রাজশাহী বিভাগে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা প্রদান।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “গত পনেরো বছরে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের স্বাভাবিক ভোটাধিকারে ব্যাঘাত ঘটানো হয়েছে। স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাধিকার হরণ হয়েছে। এবার জনগণ, রাজনৈতিক দল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ভোট প্রক্রিয়ায় নজর রাখছেন। এই নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আমাদের পেশাদারিত্ব অপরিহার্য।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মকর্তাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কেন্দ্রভিত্তিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এখনই নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও সতর্ক করেন, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। দায়িত্বে অবহেলা, পক্ষপাতিত্ব বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের সকল পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা, নির্বাচনি আচরণবিধি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জারি করা পরিপত্র অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ রাজশাহী বিভাগের জনপ্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জনগণের আস্থা ও দেশের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।
মন্তব্য করুন