
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হঠাৎ করে দেশের ৮ জন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার পদবদলির আদেশ দিয়েছে সরকার। নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক দিন আগে এ ধরনের প্রশাসনিক রদবদলকে ঘিরে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জনস্বার্থ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই বদলি কার্যকর করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা–১ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির তথ্য জানানো হয়। উপসচিব মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, “জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।” একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে দ্রুত যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি এম এ জলিল এবং পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাইফুজ্জামান ফারুকীকে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনকে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জাবেদুর রহমানকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) বদলি করা হয়েছে। একই একাডেমির আরেক অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম আশরাফুজ্জামানকে শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বদলির মধ্যে রয়েছে—রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠানকে গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ। রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রাশীদুল হাসানকে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে (পিটিসি) সংযুক্ত করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার ও সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূঁইয়ার অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে পূর্বে জারি করা বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। ফলে তিনি পূর্বের দায়িত্বেই বহাল থাকছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে এই বদলি কার্যকর করা হয়েছে। বিশেষ করে মহানগর ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ সহায়ক হবে বলে আশা করছেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহল।
মন্তব্য করুন