
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরির বিশ্বখ্যাত প্রতিযোগিতা ‘হাল্ট প্রাইজ’ অন-ক্যাম্পাস পর্ব—হাল্ট প্রাইজ অ্যাট খুলনা ইউনিভার্সিটি’র গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের মেধাবী শিক্ষার্থীরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে।
গ্র্যান্ড ফিনালের চূড়ান্ত পর্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নুরুন্নবী, মার্চেন্ট ডেভেলপমেন্ট কমার্শিয়াল ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার ও সার্কেল হেড অনিন্দ্য কুমার পাল, সিটি ব্যাংক খুলনা শাখার এরিয়া হেড ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিমাদ্রি শেখর হোর এবং স্টার্টআপ গ্রাইন্ডের চ্যাপ্টার ডিরেক্টর সুমন সাহা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাঠ্যবই পড়ার জায়গা নয়। এখানে সফট স্কিল চর্চা বেশি হওয়া জরুরি। একাডেমিক টেক্সটবুকে সফট স্কিল নেই। ফোর আউট অফ ফোর ফলাফল পাওয়াই কৃতিত্ব নয়; কৃতিত্ব তখনই, যখন একজন শিক্ষার্থী নিজেকে উদ্যোক্তা, নেতা কিংবা সমাজসেবক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “লেখাপড়ার মূল উদ্দেশ্য মস্তিষ্ককে পরিণত করা এবং কার্যক্রমের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানো। নিজের ভেতরে টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন থিম জেনারেট করতে না পারলে শিক্ষার কোনো মূল্য থাকে না।”
চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন হয় ‘স্মার্ট হুইলচেয়ার’ প্রকল্প। পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও অঙ্গহানি-গ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য স্বল্পমূল্যের আধুনিক হাই-টেক হুইলচেয়ার তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দলটি, যা ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন চলাচলে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে।
১ম রানার-আপ হয় টিম প্লাজমা। তারা সামুদ্রিক শৈবাল থেকে ক্যারাজিনান ও সোডিয়াম অ্যালজিনেট উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বায়ো-ফার্টিলাইজার ও শিল্প-উপযোগী উপাদান তৈরি করছে। দলটি ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন হাব থেকে ৪০ হাজার টাকা তহবিল পেয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
২য় রানার-আপ হয় অ্যাকোয়াজেনিক্স। তারা বাংলাদেশের উপকূলীয় ও গ্রামীণ অঞ্চলের নিরাপদ পানির সংকট মোকাবিলায় জুট-ভিত্তিক ফিল্টার ব্যবহার করে লবণাক্ততা, ভারী ধাতু ও ব্যাকটেরিয়া দূর করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে আর্সেনিক অপসারণ প্রযুক্তি উন্নয়নেও কাজ করছে দলটি।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি ও বিচারকরা। বিজয়ী দলগুলো এখন তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
চ্যাম্পিয়ন টিমের সদস্য মাহিন বলেন, “হাল্ট প্রাইজে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের জন্য শুধু একটি অর্জন নয়, এটি আমাদের স্বপ্নের স্বীকৃতি। ‘স্মার্ট হুইলচেয়ার’ তৈরি করেছি শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের চলাচলকে আরও স্বাধীন, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে। আমরা চাই প্রযুক্তি হোক অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানবিক।”
মন্তব্য করুন