
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ২ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬কে সামনে রেখে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাদীপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য প্রদান করেন দিনাজপুর–১ (বীরগঞ্জ–কাহারোল) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. মনজুরুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করবেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষ অবহেলিত। আমি নির্বাচিত হলে গ্রামাঞ্চলের কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।” তিনি আরও বলেন, মেধার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কৃষকদের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃষকরা দেশের মেরুদণ্ড। তাদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সহজলভ্য করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নারী সমাজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্যও বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। তিনি বলেন, মা-বোনদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মোয়াজ্জেম, পুরোহিত ও ফাদারদের জন্য ভাতা চালু করা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম, হয়রানি, অবিচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রসুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবু তালেব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কাহারোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা বাদশা, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মো. শামীম আলী, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শামীমা পারভীন রনি, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিয়ার রহমান মতি এবং জেলা বিএনপির সদস্য মো. আবুল হোসেন রাজা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. জুয়েল রানা। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা নির্বাচনী মাঠে বিএনপির শক্ত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন