
পবিত্র রমজান মাসের আগমনে বিশ্ব মুসলিম আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন। এ আনন্দ প্রকাশ স্বাভাবিক ও ঈমানী অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন: “বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে এটা তার চেয়ে উত্তম।” — সূরা ইউনুস: ৫৮
পার্থিব কোনো সম্পদের সাথে আল্লাহর এ অনুগ্রহের তুলনা চলে না। রমজানের আগমন হলে রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত আনন্দিত হতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে সুসংবাদ দিতেন: “তোমাদের দ্বারে বরকতময় মাস রমজান এসেছে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সিয়াম ফরজ করেছেন। এ মাসে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।” — নাসায়ী
এ মহান অনুগ্রহের যথাযথ মূল্যায়ন করা, রমজানের ফজিলত অনুধাবন করা এবং ইবাদত-বন্দেগি ও কল্যাণকর কাজে আত্মনিয়োগ করাই মুমিনের কর্তব্য।
রমজানের সাথে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ সিয়ামের সম্পর্ক রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: “হে মোমিনগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর—যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।” — সূরা বাকারা: ১৮৩
হাদিসে এসেছে, ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত—তার একটি সিয়াম। রমজানের রোজা জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যম। — বুখারি
রমজান মাসেই পবিত্র আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। “রমজান মাস, এতে নাজিল হয়েছে আল-কোরআন—মানুষের জন্য হেদায়াত…” — সূরা বাকারা: ১৮৫
লওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানে এবং সেখান থেকে ধাপে ধাপে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপর কোরআন নাজিল হয়। এ মাসে অন্যান্য আসমানি কিতাবও নাজিল হয়েছে বলে হাদিসে বর্ণিত আছে।
রমজানে কোরআন তিলাওয়াত বৃদ্ধি করা সুন্নত। জিবরাইল (আ.) প্রতি বছর রাসূল ﷺ-কে পূর্ণ কোরআন শ্রবণ করাতেন। — সহিহ মুসলিম
রাসূল ﷺ বলেন: “রমজান এলে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করা হয়।” — মুসলিম
ফলে মানুষ ইবাদতের প্রতি অধিক আগ্রহী হয়।
“লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম…” — সূরা কদর: ৩-৫
এ রাতে ইবাদতের সওয়াব হাজার মাসের চেয়েও বেশি।
হাদিসে এসেছে, রমজানে প্রত্যেক মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়। — মুসনাদ আহমদ
প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। — সহিহ আত-তারগীব
রাসূল ﷺ বলেন:
“যে ব্যক্তি রমজান পেল অথচ তার গুনাহ মাফ করাতে পারল না, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।” — তিরমিজি
রমজানের প্রতি রাতে আল্লাহ বহু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। — তিরমিজি
রমজানে নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমান এবং ফরজের সওয়াব বহু গুণ বৃদ্ধি করা হয়। রমজানে ওমরাহ আদায় করলে হজের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। — হাদিস
রমজান আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়। আল্লাহ বলেন: “ধৈর্যশীলদের বিনা হিসাবে পুরস্কার দেওয়া হবে।” — সূরা যুমার: ১০
পরিশেষে, মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে রমজানের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করে বেশি বেশি ইবাদত করার তাওফিক দান করুন।
আল্লাহুম্মা আমিন।
লেখক:
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি — জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট
সাবেক ইমাম ও খতীব — কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার জামে মসজিদ, সিলেট
মন্তব্য করুন