নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ—
ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি। এটি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় বস্তু ত্যাগ করার মহান শিক্ষা। প্রতি বছর জিলহজ মাসে সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে কোরবানি আদায় করে থাকেন।
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড় এবং কোরবানি কর।
— (সূরা কাউসার, আয়াত: ২)
কোরবানির মূল ইতিহাস জড়িয়ে আছে মহান আল্লাহর খলিল হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনন্য আত্মত্যাগের ঘটনার সঙ্গে। আল্লাহর নির্দেশে নিজের একমাত্র সন্তানকে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। পুত্র ইসমাঈল (আ.)-ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেননি। তাদের এই অনুগত্য ও ত্যাগের পরীক্ষায় সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ তাআলা ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি মহান পশু কোরবানির জন্য পাঠান।
পবিত্র কোরআনের সূরা ছাফফাতে এ ঘটনা বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেন— নিশ্চয় এটা ছিল এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।
— (সূরা ছাফফাত, আয়াত: ১০৬)
হাদিস শরিফেও কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা এসেছে। উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— কোরবানির দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো পশুর রক্ত প্রবাহিত করা। কিয়ামতের দিন কোরবানির পশু তার শিং, খুর ও পশমসহ উপস্থিত হবে। আর কোরবানির রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়।
— (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
অপর এক হাদিসে সাহাবিরা রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই কোরবানি কী?”
তিনি উত্তরে বলেন, এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত।
— (ইবনে মাজাহ)
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে।
— (ইবনে মাজাহ)
কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন। আল্লাহ তাআলা কোরআনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন— আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।
— (সূরা হজ, আয়াত: ৩৭)
অতএব, কোরবানি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবতার শিক্ষা। সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করারও অন্যতম মাধ্যম এই কোরবানি।
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা অনুধাবন করে তা জীবনে বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন।
আল্লাহুম্মা আমিন।
লেখক: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী,
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট,
সাবেক ইমাম ও খতিব, কদমতলী মাজার জামে মসজিদ, সিলেট।
মন্তব্য করুন