ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর টানা তিন দিনের জন্য বন্ধ থাকছে। আগামী বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। শনিবার সকাল থেকে আবারও নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকারি নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী এই ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হিলি কাস্টমস সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মোট তিন দিন বন্দর কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, শনিবার সকাল থেকে কাস্টমস, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানিকারক-রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতিতে বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পুনরায় চালু হবে।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়েও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যাত্রী চলাচল বন্ধ থাকবে। হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম জানান, ভোটের দিন বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে পরদিন শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কোনো যাত্রী সীমান্ত অতিক্রম করতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন চলাকালীন নিরাপত্তা জোরদার ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যাত্রী পারাপার পুনরায় আগের নিয়মে চালু করা হবে।
বন্দর বন্ধ থাকায় সাময়িকভাবে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা কিছুটা অসুবিধার মুখে পড়লেও, তারা জাতীয় স্বার্থে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন শেষে দ্রুত ও স্বাভাবিক গতিতে বন্দর কার্যক্রম শুরু হবে এবং এতে বাণিজ্যিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে বন্দর ও সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে হিলি স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আগের মতো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু থাকবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন